মোস্তাফিজুর রহমান
কয়রা পতিনিধি :
খুলনার কয়রায় সরকারি জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও কলা কাটাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর (৫২) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই সাথে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাছান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, নিহতের মেয়ে বৈশাখী এবং ছেলে বিল্লাল হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ। মানববন্ধনে বক্তারা অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ি গ্রামে ১৩ শতক সরকারি খাস জমি ও গাছ থেকে কলা কাটাকে কেন্দ্র করে হোমিও চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদারের (২৬) পক্ষের লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সিদ্দিক সরদারের লোকজনের হামলায় রব্বানীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্য সদস্যরা হলেন— নিহতের ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) এবং মা রাহিলা বেগম (৫৫)।
আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে রব্বানীর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, “এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের হয়নি, তবে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামে দুই নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”


