মোঃ হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
অনিয়ম, দুর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামের দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। আকস্মিক পরিদর্শনে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্ত দল একাধিক অসঙ্গতি পাওয়ার পর এ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন, ডিমলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশীদ এবং ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নবাব আলী। খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে মামুনুর রশীদকে চট্টগ্রাম বিভাগের সনদ্বীপে এবং নবাব আলীকে বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়েছে । গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় খাদ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত দল ডিমলা সরকারি খাদ্য গুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে যায়। এ সময় গুদাম থেকে একটি ট্রাকে চাল তোলার বিষয়টি তদন্ত দলের নজরে আসে। পরে চালগুলো গুদামেই রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত দল গুদামের মজুত, নথিপত্র, ধান-চাল সংগ্রহ ও বিতরণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন রেকর্ড যাচাই করে। তদন্তে পাওয়া বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ডিমলা খাদ্য গুদামের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠে ঐ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল সরবরাহে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, কম ওজনের চাল, নিম্নমানের চাল এবং সরকারি বস্তা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। গুদাম সূত্রে জানা যায়, ওই চাল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ডিলার রতন কুমারের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, চাল সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা ৩১ আগস্ট শেষ হওয়ার পরও চাল ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিকে গুদামের ৩৭ জন ডিলারের কাছ থেকে বড় বস্তায় চাল নেওয়ার জন্য ডিলার প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চালের মান ও ওজন নিয়েও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ডিলাররা। সম্প্রতি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ নিয়েও নিম্নমানের চাল ও সরকারি বস্তা নিয়ে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। শুধু খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নয়, বোরো ধান সংগ্রহ নিয়েও তদন্ত দলের কাছে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গুদামের বাইরে একটি রাইস মিল থেকে ধান সংগ্রহ করে পরে তা সরকারি গুদামে উত্তোলন দেখানো হয়েছে। দুই কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজের পর ডিমলা উপজেলায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, শুধু দুই কর্মকর্তাকে বদলি করলেই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। গুদামের মজুত রেজিস্টার, চাল-ধানের হিসাব, বস্তার হিসাব, সরবরাহ ও বিতরণ রেজিস্টার, ডিলারদের সঙ্গে লেনদেন এবং পূর্ববর্তী তদন্তের নথি গভীরভাবে যাচাই করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে যাবে। খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফজলে রাব্বি হায়দার জানিয়েছেন, ডিমলা খাদ্য গুদামের সার্বিক পরিস্থিতি মহাপরিচালককে জানিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। মহাপরিচালকের নির্দেশেই দুই কর্মকর্তাকে ৩ সেপ্টেম্বর স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্ট্যান্ড রিলিজের মধ্যেই যেন বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থাকে। গুদামে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। সরকারি খাদ্য গুদামের সঙ্গে শুধু একটি দপ্তরের নয়, জড়িয়ে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, দরিদ্র মানুষের খাদ্য এবং প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা।


