HomeUncategorizedগলাচিপায় বন্দোবস্তকৃত জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

গলাচিপায় বন্দোবস্তকৃত জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন 

তারিখ: শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

মোঃ হেলাল উদ্দীন

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায় বন্দোবস্তকৃত কৃষিজমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, মারধর ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়ে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসা জমি থেকে তাঁদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে।

ভুক্তভোগী মোঃ বশির হাং-এর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চরবাংলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভূমিহীন কৃষক। তাঁর দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার। চলতি বছর নতুন বাংলার দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০ একর জমিতে চাষাবাদ ও বীজ রোপণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে চরবিশ্বাস এলাকা থেকে এনিমের নেতৃত্বে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ট্রলারে করে এসে আকস্মিক হামলা চালায়। এ সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে সহায়তা চান। পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে লোকজন আসেন এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হয়। তবে ৯৯৯ থেকে তাঁকে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বশির হাওলাদার জানান, পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে গলাচিপা থানা পুলিশ এনিমের নাম শুনে মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর প্রতিপক্ষ আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে।

তিনি আরো জানান বন্দোবস্তকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি জমিতে মাটি কাটতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং শাহজাহান নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগও করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, জমির মালিকদের দলিলপত্র, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি ৭০ থেকে ৯০ বছর বয়সী কয়েকজন বৃদ্ধকেও নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আহত ব্যক্তিদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ইউসুফ মাতব্বর (৭০), লোকমান সরদার (৫৫), আকেল প্যাদা (৮০), ওসমান (৮০) ও মনাত ফরাজীর (৭৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শর্মিলা হোসাইন দোলন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার পরামর্শ দেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বশির হাওলাদার জানান, ঘটনার দিন রাতে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা মামলা নেওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেন। পরদিন বন্দোবস্তকৃত জমির মালিক মোঃ ইউসুফ মাতব্বর বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরদিন গলাচিপা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে বন্দোবস্তকৃত জমির মালিকানার দাবিতে মানববন্ধন করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বশির হাওলাদার আরও দাবি করেন, জমি দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রকৃত ভূমিমালিকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ভূমিহীনদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ, জমির প্রলোভন দেখানো এবং সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। মোঃ সোলায়মান জানান, চর বাংলায় তার বন্দোবস্তকৃত জমি থাকা সত্ত্বেও তাকে ভূমিদস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, তিনি তার জমি ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

চর বাংলায় মানববন্ধনের ব্যানারে ইঞ্জিনিয়ার নিয়াজ মাহমুদ নকিব ও মোঃ মামুন প্যাদাকে ভূমিদস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করায় সংবাদ সম্মেলনে তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রকৃত বন্দোবস্তকৃত জমির মালিকরা যেন তাদের জমি ফিরে পান এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে জেলা প্রশাসক ও গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বন্দোবস্তকৃত জমি ফিরে পাওয়া, জমির ওপর নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments