মোকলেচুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার দাকোপ উপজেলার ৭ নং তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে আমাবতি রায় (৫২) নামের এক গৃহবধূর মরাদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম রহস্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শেষে প্রমানিত গৌতম রায় ও নিমাই সরদার পরস্পর জড়িত। মৃতদেহ উদ্ধারের পরপরই তড়িঘড়ি করে সৎকার করা এবং পরবর্তীতে নিহতের ঘর থেকে উধাও হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে এখন আসামীরা পলাতক ও জড়িত রয়েছে একাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তি। জানা গেছে,নিহত আমাবতি রায় (৫২) ওই এলাকার মৃত সুব্রত রায়ের স্ত্রী।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট সকালে নিজ বাড়ির পাশের একটি ডোবা বা পুকুরে আমাবতি রায় (৫২) এর মরদেহ ভাসতে দেখেন প্রতিবেশী গৌতম রায়ের স্ত্রী। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা সাদুচরণ মলঙ্গি, মেঘনাদ মলঙ্গি, সুচিত্রা রায় ও অনিমেষের মাতাসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
অভিযোগ উঠেছে, মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই স্থানীয় সাদুচরণ মলঙ্গি দ্রুত সৎকার করার জন্য অতিউৎসাহী হয়ে ওঠেন। তিনি নিহতের পুত্র সনজু রায়কে ভয় দেখিয়ে বলেন, “পুলিশ আসলে ঝামেলা হবে, দ্রুত সৎকার কাজ শেষ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।” শুধু তাই নয়, সাদুচরণ মলঙ্গির নির্দেশে অনিমেষের মা নিহতের কান থেকে সোনার দুল ও তাঁর কোমরে থাকা ট্রাংকের চাবি খুলে নেন বলে স্বজনদের অভিযোগ। এরপর নিহতের দুই মেয়ে ও জামাতারা আসার আগেই তড়িঘড়ি করে মরদেহ কালীবাড়ির শ্মশানে নিয়ে চিতায় আগুন দেওয়া হয়, যা নিয়ে শুরুতেই স্বজনদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধে।শ্মশানে সৎকার শেষ করে সবাই যখন বাড়িতে ফেরেন, তখন সাদুচরণ মলঙ্গিসহ উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ট্রাংকের চাবিটি নিহতের পুত্র সনজু রায়ের হাতে হস্তান্তর করেন। সনজু রায় ট্রাংকটি খুলতেই হতবাক হয়ে যান। দেখা যায়, ট্রাংকে থাকা নগদ প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং একাধিক সোনার গহনা গায়েব রয়েছে। এই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং এর পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র ও অপরাধ লুকিয়ে রয়েছে।ঘটনার দুই দিন পর থেকেই এই চুরির ঘটনায় স্থানীয় গৌতম রায় ও নিমাই রায়ের নাম জড়িয়ে এলাকায় তীব্র গুঞ্জন ও সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয় তখন, যখন হঠাৎ করেই গৌতম রায়ের পিতা ভারত রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং চুরি যাওয়া একাধিক স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নিহতের পুত্র সনজু রায়ের বাড়িতে হাজির হন।টাকা ও সোনা ফেরত দেওয়ার সময় ভারত রায় স্বীকার করেন যে, তাঁর ছেলে গৌতম এবং সহযোগী নিমাই এই টাকা ও সোনা তাঁর বাড়ির পাশে ফেলে রেখে চলে গেছে। টাকা ও সোনা ফেরত দেওয়ার এই পুরো ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
একদিকে পুলিশকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ পুড়িয়ে ফেলা এবং অন্যদিকে নিহতের ঘর থেকে চুরি হওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার অভিযুক্তদের পরিবার কর্তৃক ফেরত দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনেরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর পেছনে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তি, পলাতক গৌতম ও নিমাইসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


