মোঃ আল মামুন বড়াইগ্রাম নাটোর প্রতিনিধি
বড়াইগ্রামের জোনাইল ইউনিয়নের মানইর গ্রাম। নিরিবিলি শান্ত গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই চোখে পড়বে পলিথিনের একটি ছাউনী, নিচে একটি চৌকি পাতা। ওই পলিথিনের নিচেই মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছেন বৃদ্ধ কফিল প্রামাণিক ও তার অন্ধ ছেলে আসমত। প্যারালাইজড হয়ে অচল ওই বৃদ্ধ কফিল উদ্দিনের নেই কোনো বাড়ি-ঘর। তাই রাস্তার পাশেই পলিথিন টাঙিয়ে কোনোরকম জীবন পার করছেন তিনি। ঝড় এলে পলিথিন উড়ে যায়, বৃষ্টি এলে ভিজে যায় শেষ আশ্রয়টুকু। আর রোদে প্রচণ্ড গরমে তপ্ত হয়ে ওঠে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু। তার মধ্যেই বসবাস করতে হয় তাদের।
এক খণ্ড জমি থাকলেও নেই নিজস্ব কোনো ঘর, নিরাপদ কোনো আশ্রয়। অভাবের সংসারে নিত্যদিনের খাবার জোটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে স্থায়ী ঘরে বসবাস করা যেন অসহায় বাবা-ছেলের কাছে বিলাসিতা।
জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক কফিল প্রামাণিক। অসহায় মেয়েও দায়িত্ব নিতে পারেনি বাবার। তাই অসুস্থ বাবার একমাত্র ভরসা অন্ধ ছেলে আসমত প্রামাণিক। জন্মান্ধ না হলেও পরে পোলিও রোগে অন্ধত্ব বরণ করেন আসমত। এক সময় আসমত প্রামাণিকের স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল ছোট্ট সংসার। কিন্তু অন্ধ আসমতকে ফেলে ৭-৮ বছর আগে চলে যান স্ত্রী। আর মেয়ে আত্মহত্যা করেন। তাই এখন নিঃসঙ্গ ও অন্ধত্বের জীবনে ভিক্ষা করে অসহায় বাবার সেবা করছেন তিনি।
চোখে দেখতে পান না, তবুও বাবার মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন গ্রামে গ্রামে মানুষের দ্বারে ভিক্ষা করেন তিনি।
বৃদ্ধ কফিল উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, “রোদ-বৃষ্টিতে পলিথিনের নিচে থাকতে খুব কষ্ট হয়। একখণ্ড জমি থাকলেও আমাদের থাকার মতো কোনো ঘর নেই। অনেক পুরোনো একটি টিনের ঘর থাকলেও তার বেড়া ভেঙে গেছে। যে কোনো সময় ঘরটি ভেঙে পড়বে। শুনেছি সরকারিভাবে ঘর দেয়, আমাদের যদি একটি ঘর দিতো, তাহলে শেষ জীবনে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম।”
মানইর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, “একটি ঘর কারও কাছে হয়তো খুব সাধারণ একটি প্রয়োজন। কিন্তু ওই বাবা-ছেলের কাছে সেটিই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। আপাতত ঘর করে দেওয়ার মতো কোনো প্রকল্প চালু নেই। তবে মানবিক কারণে অন্য কোনো খাত থেকে হলেও তাদের বসবাসের মতো স্থায়ী ঘর করে দেওয়ার চেষ্টা করব।”


