মোঃ আশিকুর রহমান, শ্রীপুর, গাজীপুর।
“শ্রীপুর” গাজীপুরের উত্তরে সবচেয়ে বড় থানা এই শ্রীপুর। যেখানে রয়েছে গাজীপুরের সবচেয়ে বেশি শালবন।
১৯৩৩ সাল পর্যন্ত শ্রীপুর ছিল কাপাসিয়া থানার অন্তর্গত। তবে ১৯৮৪ সালে শ্রীপুরকে থানায় উন্নীত করা হয়।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার আয়তন ৪৬২.৯৪ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৪৯,২৭৯২ জন (২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)। এখানে জনসংখ্যা ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১০৬০ জন।
বৃটিশ আমলে কাপাসিয়া অঞ্চলের প্রধান পোস্ট অফিস ছিল শ্রীপুরে। কিন্তু ঢাকা থেকে সহজেই রেলপথে ডাক আসতো শ্রীপুরে।
শ্রীপুরে একটি পৌরসভা এবং আট ইউনিয়ন রয়েছে।
সবচেয়ে উত্তরের ইউনিয়ন কাওরাইদ এবং দক্ষিণের ইউনিয়ন প্রহলাদপুর।
গাজীপুর জেলার এই শ্রীপুর উপজেলায় গাজীপুর নামেও একটি ইউনিয়ন রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলায় পাঁচটি রেলস্টেশন রয়েছে।কাওরাইদ ,সাতখামাইর, শ্রীপুর, ইজ্জতপুর এবং রাজেন্দ্রপুর।
ভাওয়াল রাজাবাড়ি ইউনিয়নটি উত্তর-দক্ষিণ কৌনিক দূরত্বে প্রায় ১১ কিলোমিটার লম্বাটে।সেই বিন্দুবাড়ী থেকে চিনাশুখানিয়া।
চিনাশুশানিয়া গ্রামেই ছিল মধ্যযুগের বৌদ্ধধর্মাবলম্বী চণ্ডাল রাজার বাড়ি।এক যুগ আগেও কিছু দৃশ্যমান ধ্বংসাবশেষ ছিল সেই রাজপ্রাসাদ।
এই রাজবাড়ির নামেই ইউনিয়নের নাম ভাওয়াল রাজবাড়ী।
প্রহলাদপুর ইউনিয়নটি বেলাই বিলের উত্তর প্রান্তের নিম্নাঞ্চল বিধৌত এলাকা। শ্রীপুরের সবচেয়ে খোলা প্রান্তর সেখানেই।উপজেলা সদর শ্রীপুর সেই বহুদূরের পথ।সেই তুলনায় গাজীপুর সদর/জয়দেবপুর শহর খুবই কাছে।
গোসিংগা ইউনিয়নে রয়েছে প্রাচীন সব বিশাল দিঘী, চমৎকার গোসিংগার ঘাট। শীতলক্ষ্যা নদী।
বরমী তার নিজের নামেই পরিচিত। প্রায় চারশো বছরের পুরনো এর বরমী বাজার।দুই নদীর মোহনা। এখানে রয়েছে শতশত বানর। বর্তমান সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ বাজার বলা যায় বরমীকে।সাতখামাইর রেলস্টেশন বরমী ইউনিয়নে অবস্থিত।
কাওরাইদ ইউনিয়নটি পূর্ব-পশ্চিম লম্বাটে। গাজীপুর জেলায় সবচেয়ে উত্তরের রেলস্টেশন এই কাউরাইদ রেলস্টেশন।কাওরাইদের সাথেই রয়েছে ভালুকা এবং গফরগাঁওয়ের সীমানা।একদম উত্তর প্রান্তে হয়দেবপুর, জাহাঙ্গীরপুর,ধামলই গ্রাম।
তেলিহাটি ইউনিয়নে কোন রেলপথ নেই। তবে এর লোহাই হাট সবচেয়ে বড় গ্রামীণ হাট। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এই তেলিহাটি ও গাজীপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে গিয়েছে।
গাজীপুর ইউনিয়নের শৈলাট থেকে সামান্য উত্তরেই ময়মনসিংহ ভালুকার কাচিনা ইউনিয়ন।শৈলাট নামটি ইতিহাসের জনপদ। মধ্যযুগের চণ্ডাল রাজাদের রাজবাগান ছিল। পাকিস্তান আমলেও শৈলাট এবং ভালুকার কাচিনা-বাটাজোড় এলাকায় হাতিশালা ছিল।
মাওনা ইউনিয়নে পড়েছে গাজীপুর সাফারি পার্ক। আরো আছে নুহাশ পল্লীর উত্তরাংশের জনপদ। বর্তমান মাওনা চৌরাস্তা সারাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোর মধ্যে একটি।মাওনা চৌরাস্তা পৌরসভার অন্তর্গত।
শ্রীপুর পৌরসভাটি পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত। শ্রীপুরের ওয়াইদ্যার দিঘী প্রায় ৮০০/৯০০/হাজার বছর আগের এক বিশাল দিঘী। সেখানেই শ্রীপুরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ।
শ্রীপুরে অনেক ধরনের স্থাপনা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক যা বর্তমান নাম পরিবর্তন করে গাজীপুর সাফারি পার্ক করা হয়েছে আরো রয়েছে নক্ষত্রবাড়ি রিসোর্ট। এছাড়াও গাজীপুর শ্রীপুরে রয়েছে শিশুপ্লী প্লাস, কালমেঘ, গ্রীন ভিউ রিসোর্ট, নূহাশ পল্লী, এবং শ্রীপুর জমিদার বাড়ি। এই স্থানগুলো ছাড়াও, এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত চা বাগান ও কৃত্রিম লেক ও পিকনিক স্পটও রয়েছে।


