তারিখ: বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
মোঃ হেলাল উদ্দীন
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কোটখালী গ্রামে ১০.৩৫ একর জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে একাধিক দেওয়ানি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকলেও সম্প্রতি বিরোধীয় জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ ও দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কোটখালী ও ইচাদী মৌজার ওই ১০.৩৫ একর জমির রেকর্ডীয় মূল মালিক ছিলেন মৃত হাকিম আলী মোল্লা। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী জরিনা খাতুন এবং পরবর্তীতে ওয়ারিশ সূত্রে মতলেব মোল্লা ও লতিফ মোল্লা গং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে তাঁদের পক্ষের দাবি। তাঁদের নামে কচুয়া ৪২ নম্বর মৌজায় এসএ ৮৭, ৮৮ ও ১৭৮ এবং কোটখালী ৪১ নম্বর মৌজায় এসএ ৬২ ও ১১৭ খতিয়ান রয়েছে।
অন্যদিকে, একই গ্রামের মৃত ইউনুস মোল্লা হাকিম আলী মোল্লার কাছ থেকে ওই জমি ক্রয় করেছিলেন বলে তাঁর ওয়ারিশদের দাবি। পরে ইউনুস মোল্লা তাঁর স্ত্রী রানুয়া পারভীন ও পাঁচ কন্যার নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেন। তবে মোতাহার ও লতিফ মোল্লা গংয়ের দাবি, হাকিম আলী মোল্লা জীবিত থাকতেই তাঁর সম্পত্তি অন্যত্র বিক্রি করে নিঃস্বত্ববান হন। ফলে ইউনুস মোল্লার ক্রয়কৃত দলিলের বৈধতা নিয়ে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বিরোধীয় জমি নিয়ে আদালত ও ভূমি অফিসে একাধিক মামলা ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইউনুস মোল্লা জীবিত থাকা অবস্থায় সহকারী জজ আদালতে সত্য ঘোষণার মামলা নম্বর ১২০/০৬ দায়ের করেন এবং ২০০৭ সালে একতরফা রায় পান। পরে লতিফ মোল্লা গং ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলা যুগ্ম জজ ২য় আদালতে লতিফ মোল্লা গংয়ের বণ্টন মামলা নম্বর ২৫/১৭ এবং গলাচিপা সহকারী জজ আদালতে মতলেব মোল্লা গংয়ের ২৩৩/১৭ ও লতিফ মোল্লা গংয়ের ৪০/২৫ নম্বর বণ্টন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব দেওয়ানি মামলা জেলা যুগ্ম জজ ২য় আদালতে বিচারের জন্য আনা ‘মিস কেস ০৩/১৭’ আদালত মঞ্জুর করেছেন বলেও জানা গেছে।
এর মধ্যে ইউনুস মোল্লার ওয়ারিশরা ২৮৩৩ ও ২৮৩৫/২৫-২৬ নম্বর নামজারি মামলার মাধ্যমে ১.৩৪ একর জমি নিজেদের নামে খতিয়ানভুক্ত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বিরুদ্ধে লতিফ মোল্লা গং গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে নামজারি বাতিলের জন্য ‘মিস কেস নম্বর ১০গলা/২৬-২৭’ দায়ের করেছেন।
সম্প্রতি রানুয়া পারভীন ও তাঁর লোকজন বিরোধীয় জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ করেছেন বলে অভিযোগ করেন লতিফ মোল্লা গং। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করার পাশাপাশি জমির সীমানা ও আকৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনায় লতিফ মোল্লা বাদী হয়ে গলাচিপা উপজেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে দখল পুনরুদ্ধারের মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৬৫৮/২৬। বর্তমানে মামলাটি গলাচিপা থানায় তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিরোধীয় জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকায় আইনি নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা উচিত হলেও মাঠপর্যায়ে দখল নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষের লোকজন মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জমি নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে প্রাণহানি কিংবা বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় জমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


