গাইবান্ধায় সিএসসিটি প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত
রউফুল আলম, ব্যুরো চীফ, রংপুর:
গাইবান্ধায় ‘কনফ্লিক্ট সেনসিটিভিটি অ্যান্ড কনফ্লিক্ট ট্রান্সফরমেশন (সিএসসিটি)’ বিষয়ক চারদিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সংঘাতের কারণ চিহ্নিত করে তা রুপান্তরে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া উন্নয়নকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা।
১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত গাইবান্ধার গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) ট্রেনিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডাব গাইবান্ধা জেলা শাখার সহ-সভাপতি শারমিন সুলতানা। প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ কাওছার আলম মুনসি (কনক), পরিচালক (কর্মসূচি), এডাব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ আফতাব উদ্দিন, কো-অর্ডিনেটর, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে), গাইবান্ধা এবং আমিনুল ইসলাম সরদার, সদস্য সচিব, এডাব গাইবান্ধা জেলা ও নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তাহমিনা বাশার নাজনীন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর, এডাব।
প্রশিক্ষণের ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দীপোজ্জল খীসা , বাবলু চাকমা এবং উত্তরা ত্রিপুরা (খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি), প্রতিনিধি, মালেয়া ফাউন্ডেশন, রাঙ্গামাটি। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করে মালেয়া ফাউন্ডেশন। সার্বিক সহযোগিতা করেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় সমন্বয়কারী এস. এম. আনিছুর রহমান।
প্রশিক্ষণে দ্বন্দ্ব কি, সহিংসতা কি, দ্বন্দ্ব আর সহিংসতার পার্থক্য, সহিংসতার ধরণ, দ্বন্দ্বের ধরণ, কারণ, উৎস, দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ কি ও বিশ্লেষণের গুরুত্ব, বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত টুলস উন্নয়ন কার্যক্রমের সম্পর্ক, সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আচরণ, যোগাযোগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাত রুপান্তরের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে হাতে-কলমে আলোচনা ও অনুশীলন করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা বলেন, এ প্রশিক্ষণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘাতকে কীভাবে সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিশ্লেষণ ও মোকাবিলা করা যায়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়া গেছে। তাদের মতে, চারদিনের পরিবর্তে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত হলে এর সুফল আরও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
প্রশিক্ষণার্থী ফারহানা বেগম রওনক বলেন, “প্রশিক্ষণটি আমাদের শুধু সংঘাত সম্পর্কে ধারণা দেয়নি; বরং সংঘাতের পেছনের কারণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। কর্মক্ষেত্র ও সমাজে মানুষের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা আমরা বাস্তবে প্রয়োগ করতে চাই।” আরেক প্রশিক্ষণার্থী মোঃ রাঊফুন রহমান বলেন, “সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণ বুঝে সংবেদনশীল ও ইতিবাচক উপায়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই এই প্রশিক্ষণের অন্যতম বড় শিক্ষা। স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরিতে আমরা এই জ্ঞান কাজে লাগাতে পারব।”
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত নানা ধরনের সংঘাতের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এসব সংঘাত যথাসময়ে চিহ্নিত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না গেলে তা সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই উন্নয়নকর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ‘কনফ্লিক্ট সেনসিটিভ’ হয়ে কাজ করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না; প্রকল্পের ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে বৈষম্য, অসন্তোষ বা সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। সংঘাতের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝে আগেভাগে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।
এডাবের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র ও স্থানীয় সমাজে প্রয়োগ করবেন। এর মাধ্যমে গাইবান্ধায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি ও সংঘাত নিরসনের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।


