HomeUncategorizedমোরেলগঞ্জে তাহ্ফিজুল উম্মাহ্ মডেল মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠিত

মোরেলগঞ্জে তাহ্ফিজুল উম্মাহ্ মডেল মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ও পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠিত

মোঃ নাজমুল, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে তাহ্ফিজুল উম্মাহ্ মডেল মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল, দস্তারবন্দী ও পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান। পবিত্র কুরআনের সুমধুর তিলাওয়াত, ইসলামী আলোচনা এবং হাফেজ শিক্ষার্থীদের সম্মাননায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান এলাকাজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বুধবার বিকাল ৩টায় মাদ্রাসার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, হাফেজ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে এক প্রাণবন্ত ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দীর্ঘ ৬ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সঙ্গে দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। কুরআনের হিফজ, ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে নিরলস ভূমিকা রেখে চলেছে মাদ্রাসাটি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন মাদ্রাসার উস্তাদদের অংশগ্রহণে বিশেষ মশক পরিচালনা করেন উস্তাজুল হুফ্ফাজ শায়েখ আব্দুল হক, চেয়ারম্যান, হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। এসময় কুরআনের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আলেম-ওলামা, জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম বলেন, “ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে এমন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কুরআনের হাফেজরা আমাদের জাতির গর্ব ও সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিকাল ৪টায় প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন শিক্ষার্থীকে নতুন ছবক প্রদান করা হয়। পরে আসর নামাজের পর পবিত্র কুরআনের হিফজ সম্পন্নকারী ৯ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ি পরিয়ে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় এবং সন্তানদের এমন গৌরবময় অর্জনে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিভাবকরাও।
বক্তারা বলেন, কুরআনের শিক্ষায় আলোকিত আদর্শ প্রজন্ম গঠনে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণেও মাদ্রাসাটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সমাপনী বক্তব্যে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমাদের স্বপ্ন, পবিত্র কুরআনের আলো সমাজের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে আমরা দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও কুরআনের হাফেজ তৈরির এই ধারা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও কুরআনের আলোয় আলোকিত নতুন প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, কুরআনের খেদমতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments