HomeUncategorizedবরুড়া ছেলেকে মাদকমুক্ত রাখার অনুরোধে বাবার ওপর সন্ত্রাসী হামলা।

বরুড়া ছেলেকে মাদকমুক্ত রাখার অনুরোধে বাবার ওপর সন্ত্রাসী হামলা।

মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূইয়া কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নে ছেলেকে মাদকাসক্ত না করার অনুরোধকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে এক ব্যক্তির বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও তাকে কুপিয়ে আহত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাবা-ছেলের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং ঘটনাস্থলেই স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে। আহত বাবা বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসা ও ড্রেসিং করাচ্ছেন।

 

রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা

স্থান: বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নের শাকপুর গ্রামের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ার চারা বাড়ি

ভুক্তভোগী আঃ লতিফের অভিযোগ, ঘটনার দিন দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিনি মো. সোহাগ ও সাগরকে তাঁর বড় ছেলে রাকিবকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য অনুরোধ করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। আঃ লতিফ জানান, তাঁর বড় ছেলে রাকিব দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন; তাই ছেলেকে মাদক থেকে দূরে রাখার অনুরোধ করায় বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

 

হামলার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা

আঃ লতিফের দাবি, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি বাড়ির নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিচ্ছিলেন। এ সময় মো. সাগর (২৪), মো. সোহাগ (২৫), মানিক (৩০)—তিনজনই আঃ মতিনের ছেলে এবং মো. রাকিব (২০), পিতা মো. হাসান, সর্বসাং শাকপুর (বশত আলী হাজী বাড়ি)—দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাঁকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করেন। তাঁর চিৎকার শুনে ঘরে থাকা স্ত্রী তাহমিনা বেগম ছুটে এসে তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন; এ সময় তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন আঃ লতিফ।

 

পরে তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তাঁদের জামা ও জুতা ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী।

 

চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা

আঃ লতিফ জানান, স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন। তাঁর একটি আঙুল কেটে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করাতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ

আঃ লতিফ বলেন, “আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। যারা অন্যায় করেছে, তদন্তে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোহাগ ও সাগরের মা বলেন, তাঁদের ছেলেদেরও মারধর করা হয়েছে। তিনিও ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং ন্যায়বিচার দাবি করেন।

 

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি

স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ থেকে সৃষ্ট এমন ঘটনা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ বা মামলা হয়ে থাকলে তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

 

প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট:

কুমিল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান ও মাদকজনিত সহিংসতার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে; র্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া গেছে। একইভাবে, মাদক নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলা ও হত্যার ঘটনাও কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় ঘটেছে।

 

নোট: এই প্রতিবেদনটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় সূত্র এবং প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তৈরি। পুলিশি তদন্ত ও আদালতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা ও দায়ীদের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments