নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকার মালামাল খোয়া যাওয়ার অভিযোগ
রউফুল আলম, ব্যুরো চীফ, রংপুর:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি বসতবাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে গেট ও ঘরের দরজার তালা কেটে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার রনচণ্ডী ইউনিয়নের উচাবদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিক মোঃ আনোয়ারুল হক (৩৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মোঃ আনোয়ারুল হক স্বপরিবারে ছোট শালােকের বিয়ের দাওয়াতে অংশ নিতে লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ী এলাকায় যান। যাওয়ার সময় তিনি বাড়ির ঘরের দরজা ও বাইরের গেটে তালা লাগিয়ে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ৫টার মধ্যে অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা বাড়ির বাইরের গেটের তালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চোরেরা হ্যাকসো ব্লেড জাতীয় ধারালো যন্ত্র দিয়ে ঘরের দরজার তালা কেটে ভিতরে ঢুকে বাক্সে রাখা গরু বিক্রির নগদ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা, আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের কানের দুল, ১ টু কম্পিউটার মনিটর, একটি গ্যাসের চুলা, একটি গ্যাস সিলিন্ডার ও একটি পানির মোটরসহ প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মালামাল নিয়ে যায়।
বাড়ির মালিকের ভাগিনা মোঃ শাফিউল ইসলাম মোবাইল ফোনে চুরির বিষয়টি জানালে আনোয়ারুল হক দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তিনি বাড়িতে প্রবেশ করে গেট ও ঘরের দরজার তালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা ও মালামাল খুঁজে না পেয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার বিষয়ে কথা হয় অভিযোগকারীর ছোট ভাই ও মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মোঃ আইনুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, “অভিযোগকারী আমার বড় ভাই। আমরা স্বপরিবারে লালমনিরহাটের বড়বাড়ীতে বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে গভীর রাতে চোরেরা হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে তালা কেটে ঘরে ঢুকে উল্লেখিত মালামাল নিয়ে গেছে বলে ধারণা করছি। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।”
২ নম্বর সাক্ষী মোছাঃ দেলোযান বেগম বলেন, চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি চোরদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
অন্যদিকে ৩ নম্বর সাক্ষী মোছাঃ লিপি আক্তার বলেন, “প্রমাণ ছাড়া কারও নাম বলতে পারছি না। তবে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিচ্ছি।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী মোঃ আনোয়ারুল হক রনচণ্ডী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা থাকলেও গভীর রাতে বাড়িতে কেউ না থাকলে চোরচক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
ছবি: ঘটনাস্থল/ভুক্তভোগীর বাড়ি/কাটা তালা।


