মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূঁইয়া কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার বরুড়ায় ডিবি পুলিশের ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকতির প্রস্তুতি কালে দেশীয় অস্ত্র, নানা উপকরণসহ আন্ত:জেলা ডাকাত দলের ৮জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার দুপুরে আটককৃত ডাকাতদেরকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপন খবরের ভিত্তিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস এর তত্বাবধানে ও নির্দেশনায় বরুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় এগারোটার দিকে উপজেলার খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নের মুগুজি-হরিপুর নামক সড়কের পশ্চিম পাশের একটি পারিবারিক কবর স্থান থেকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত আন্ত:জেলা ডাকাত দলের ৮ জনকে আটক করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি ডিবি লিখা কুটি,
১টি হ্যান্ডকাপ ও হ্যান্ডকাপের দুটি চাবি, একটি নীল রঙের লেজার লাইট, ১টি স্টিলের তৈরি ম্যাজিক স্টিক,
১টি কাঠের বাটযুক্ত হাতুরি,
১টি সিলভার রঙের এসএস পাইপ চাইনিজ কুড়াল সাদৃশ্য ধারালো অস্ত্র, ১টি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো লম্বা ছুরি এবং ১টি স্টিলের কাটার উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাতরা হল-
পটুয়াখালী জেলার দশ-মিনা থানার রাম-বল্লব পুর গ্রামের আবুল হাশেম মৃধার ছেলে মো. খলিলুর রহমান (৪৯), বরিশাল জেলার আগৈর ঝারা থানার চাঁত্রি-শিরা গ্রামের মো. মোজাফ্ফর হোসেনের ছেলে মো. সুমন মোল্লা (৪১), পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার বিল-বিলাস গ্রামের মৃত চান্দু মল্লিকের ছেলে মো. হারুন মল্লিক (৪৬), বরগুনা জেলার আমতলী থানার কেরা বুনিয়া গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন মৃধার ছেলে মো. আফতাব হোসেন মৃধা (৩৮), ভোলা জেলার তজমুদ্দিন থানার বদলীপুর গ্রামের মৃত. মোসলেমের ছেলে আবুল কাশেম প্রকাশ কাশেম (৪৪), পটুয়াখালী জেলার দশ-মিনা থানা বেতাগী গ্রামের মো. আব্দুস সালাম সর্দারের ছেলে মো. সোহাগ রানা (৪৫), পটুয়াখালী জেলার একই থানা এবং একই গ্রামের মো. মেছের আলী মেলকার এর ছেলে মো. মোশারফ মেলকার (৪৬),
এবং পটুয়াখালী জেলার রাঙাবালী থানার চর আন্ডা গ্রামের ইউনুছ প্যাদার ছেলে মো. নুরুল হক (৪৪)।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে জানান, আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামীদের সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে পিকআপ ও মাইক্রোবাস যোগে দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে গরু ডাকাতি সহ ডাকাতি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এখানেও তারা স্থানীয় অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের সহায়তায় ডাকাতি সংঘঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। এছাড়া আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানিয়েছেন।


