মোস্তাফিজুর রহমান
কয়রা প্রতিনিধি:
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এ খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন খুলনার কয়রা উপজেলার মঠবাড়ি সেরাজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস এম সেরাজুল ইসলাম (সবুজ)
বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা এবং বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা, খুলনা বিভাগ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সাফল্যে শিক্ষা অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সহকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রতিক্রিয়ায় সেরাজুল ইসলাম সবুজ বলেন, “আমার পিতার স্বপ্ন ছিল আমি যেন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হই। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে সবসময় গুরুত্ব দিই। আমি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করি। তাদের ঝরে পড়া রোধ, সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা এবং নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি এ অর্জনের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে সবার দোয়া কামনা করেন।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার বলেন, “সেরাজুল ইসলাম সবুজ কয়রা উপজেলাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তার এই অর্জন অন্যান্য শিক্ষকদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সিরাজুল ইসলাম ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কয়রা উপজেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এবার জেলা পর্যায় পেরিয়ে বিভাগীয় পর্যায়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। পরবর্তী ধাপে তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি খুলনা বিএল কলেজ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিষয়ে প্রথম বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার পিতা এস এম আব্দুস সবুরও শিক্ষক ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি কয়রা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার একমাত্র অ্যাম্বাসেডরশিপ অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৭ সালে আন্তঃপিটিআই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তিনি একাধিক বিষয়ের মাস্টার ট্রেইনার, আইপিইএমআইএস (IPEMIS) সিস্টেমের বিভাগীয় রিসোর্স পারসন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগের অনুমোদিত ‘Helping Page of e-Monitoring’ ফেসবুক পেজের সম্মানিত সম্পাদক। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সহায়তা দিয়ে আসছেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রীও একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০১৩ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সেরাজুল ইসলাম সবুজ বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিষ্ঠা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের জন্য ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।


