মোকলেচুর রহমান,দাকোপ খুলনা প্রতিনিধিঃ
খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদীর তীরবর্তী ঐতিহাসিক বানিশান্তা যৌনপল্লী জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবে জোয়ারের পানিতে ভাসছে। নদীভাঙন এবং জোয়ারের পানি বৃদ্ধির ফলে এখানকার বাসিন্দারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরের জোয়ারের পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে খুলনার দাকোপ উপজেলার পশুর নদী তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী বানিশান্তা যৌনপল্লী। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও অমাবস্যা-পূর্ণিমার স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে এখন পানির উচ্চতা অনেক বেশি। ফলে পল্লীর জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি, চলাচলের একমাত্র কাঁচা রাস্তা এবং আঙিনা এখন পানির নিচে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতিনিয়ত নদীভাঙন ও জোয়ারের লবনাক্ত পানির এই আগ্রাসন এখানকার প্রান্তিক নারীদের জীবনকে ঠেলে দিয়েছে এক চরম অনিশ্চয়তায়।মোংলা বন্দরের ঠিক বিপরীত পাশে পশুর নদীর কোল ঘেঁষে অবস্থিত এই বানিশান্তা যৌনপল্লী। নদী তীরবর্তী অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নিচু জমিতে গড়ে ওঠায় সামান্য জোয়ারের পানিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ঘরের ভেতর হাঁটু সমান পানি। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে বিছানাপত্র পর্যন্ত পানিতে ভিজে গেছে। ক্রমাগত নদীভাঙনের ফলে পল্লীর ভূখণ্ড দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। অনেকেই তাদের ঘর ভেঙে একটু পেছনের দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু পেছনেও আর নতুন কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। পল্লীটি পানিতে ভেসে থাকায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে মংলা বন্দর ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা গ্রাহকদের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে এখানকার যৌনকর্মীরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম খাদ্যসংকটে দিন কাটছে তাদের। অনেক বয়োবৃদ্ধ ও মধ্যবয়সী যৌনকর্মী, যাদের আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই, তারা দুবেলা দুমুঠো ভাতের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। জোয়ারের পানিতে ভেসে বেড়ানো যৌনপল্লী কর্মীরা বলেন, দাকোপ বটিয়াঘাটা খুলনা-১ আসনের জনপ্রিয় জনদরদী অভিভাবক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আমীর এজাজ খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।


