মোকলেচুর রহমান, দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের খলিশা সহ একাধিক স্থানে ওয়াপদা বেড়িবাঁধে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর প্রবল জোয়ার এবং আকস্মিক ভাঙনের ফলে ওই এলাকার শত শত একর ফসলি জমির রোপা আমন ধান এবং স্থানীয়দের বসতভিটা ও বাড়িঘর চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙন পরিস্থিতি যখন চরম আকার ধারণ করে, তখন তা প্রতিরোধে এবং এলাকাকে প্লাবনের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের জোয়ারের পানির প্রবল চাপে খলিশা এলাকার বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়। উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র প্রধান ফসল আমন ধান। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভেসে যাবে অসংখ্য মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই। এ ছাড়া চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে পানখালীর লক্ষ্মীখোলা পিসের মাথা নামক স্থান,জাবেরের খাওয়া ঘাট, তিলডাঙ্গার বটবুনিয়া বাজার,আন্ধার মানি, কামিনিবাসিয়া,বানিশান্তার ক্যাম্প ঘাট, বানিশান্তার মেইন বাজার, রেখামারী,বানিশান্তা যৌন পল্লী সহ সুতারখালীর কালাবগি বাজার, ফকির পাড়া নামক স্থান,সুতারখালী মডেল,তেলিরকোনা, পোদ্দারগন্জ বাজার এসব জায়গা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।ভাঙন চূড়ান্ত রূপ নিলে এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত উদ্যোগ নেয় প্রশাসন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেন। বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আগেই তা রোধ করতে প্রশাসন ও পাউবোর যৌথ তদারকিতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই সংকটকালীন মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত উপস্থিতি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় কৃষকরা জানান, “সঠিক সময়ে বাঁধের সংস্কার কাজ শুরু না হলে আমাদের সারা বছরের আহার এই আমন ধান নোনা পানিতে শেষ হয়ে যেত।” পাউবো ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাঙন রোধে সাময়িক জরুরি মেরামতের কাজ চলছে। তবে ফসলি জমি ও মানুষের বসতভিটা স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে পরবর্তীতে টেকসই এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে


