HomeUncategorizedরূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান পরিবর্তন,রোগীদের পাশে ইউএইচএফপিও ডা. মাজেদুল হক...

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান পরিবর্তন,রোগীদের পাশে ইউএইচএফপিও ডা. মাজেদুল হক কাওসার

আজিজুল ইসলাম, খুলনা।

 

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের মুখে এখন স্বস্তির কথা। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চিকিৎসক-নার্সদের আন্তরিকতা এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নিতে সরাসরি ওয়ার্ডে ছুটে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মাজেদুল হক কাওসার। তাঁর নিয়মিত তদারকি ও রোগীবান্ধব কর্মকাণ্ডে বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার চিত্র। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) হিসেবে ডা. মাজেদুল হক কাওসার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের এই ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তাঁর নিয়মিত তদারকি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সেবাদান, চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসেছে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা। দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও রোগীবান্ধব মনোভাবের কারণে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থানীয় মানুষের কাছে ধীরে ধীরে আরও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে উঠছে। প্রায় ১ বছর ৮ মাস আগে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডা. মাজেদুল হক কাওসার। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং রোগীদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর নিয়মিত তদারকি ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। একজন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হয়েও নিয়মিত রোগীদের সরাসরি চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত দেখছেন, তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। রোগীর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি কোনো রোগীর বিশেষ শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রূপসা উপজেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডা. মাজেদুল হক কাওসার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি নিয়মিত হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের দেখছেন, তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত অবগত হচ্ছেন। রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে ২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৫ জন। ভর্তি রোগীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

 

পুটিমারি গ্রাম থেকে আসা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সাব্বির বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ইউএইচএফপিও স্যারও নিয়মিত রোগীদের দেখতে আসেন এবং শারীরিক অবস্থার বিষয়ে জানতে চান। এতে আমাদের মধ্যে সাহস ও আস্থা তৈরি হয়েছে।”

 

নৈহাটি এলাকার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হালিমা বেগম বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ আগের চেয়ে অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। ইউএইচএফপিও স্যারসহ অন্যান্য চিকিৎসকরাও সময়মতো রোগী দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করছেন। বিশেষ করে স্যার নিজে রোগীদের দেখতে আসায় ভালো লাগে।

 

পিঠাভোগের লিটন পাল বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তন এসেছে। রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের আচরণও ভালো। নিয়মিত চিকিৎসা পাওয়ায় দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশা করছি।

অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি সামন্তসেনা এলাকার শাহিনুর বেগম বলেন, আমি অন্য অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে ইউএইচএফপিও স্যারসহ চিকিৎসকরা নিয়মিত রোগী দেখছেন এবং নার্সরাও যত্ন নিচ্ছেন। হাসপাতালের পরিবেশও বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। নৈহাটি এলাকার বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম বলেন, বয়স হয়েছে, অসুস্থ হলে হাসপাতালে আসতে হয়। এখানে ডাক্তাররা সময় দিয়ে রোগীদের দেখছেন। বড় ডাক্তার স্যার নিজেও রোগীদের খোঁজ নেন, এটা আমাদের মতো বয়স্ক রোগীদের জন্য অনেক ভরসার।

 

উপস্থিত রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের বর্তমান পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল। চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে হাসপাতালের প্রধান কর্মকর্তা নিজে নিয়মিত রোগীদের দেখতে আসা, তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

 

এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল হক কাওসার বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রতিটি রোগী আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমি চেষ্টা করি প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত রোগীদের কাছে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে এবং চিকিৎসাসেবার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। রূপসার সাধারণ মানুষ যাতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সহজে, স্বস্তিতে ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পান, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

 

 

 

স্থানীয়দের মতে, উপজেলা পর্যায়ের একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও নিয়মিত তদারকি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ডা. মাজেদুল হক কাওসারের কর্মকাণ্ড তারই একটি উদাহরণ। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি নিজে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছেন, যা একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিচয় বহন করে।

 

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. মাজেদুল হক কাওসার। তাঁর নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবার এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে এবং রূপসার সাধারণ মানুষ আরও উন্নত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা পাবেন এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments