মোঃ মহিবুল্লাহ্ ভূইয়া কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুটি মৎস্য খামারের আনুমানিক ১৩ লাখ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের ধারণা। ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কোনো এক সময় কুয়েতপ্রবাসী শাহ আলমের মালিকানাধীন মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণপুর গ্রামে অবস্থিত তাঁর তিনটি মৎস্য খামারের মধ্যে দুটি খামারের মাছ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আনুমানিক ১৩ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর শাহ আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার (২৮) বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অভিযোগে মো. স্বপন (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩৫), মো. শামীম (২৮) ও সৈয়দুর রহমান (৬৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের সবার ঠিকানা কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আড্ডা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রাম বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিরা দোষী কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
যৌথ মাছ চাষ নিয়ে বিরোধ
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রবাসী শাহ আলমের সঙ্গে যৌথভাবে মাছ চাষের ব্যবসা করতেন মো. স্বপন (৩০), পিতা সৈয়দুর রহমান। কিছুদিন আগে শাহ আলম দেশে ফিরে আসার পর তাঁদের মধ্যে ব্যবসার হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে শাহ আলম যৌথভাবে মাছ চাষ ও ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাঁর পাওনা হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, এই বিরোধের জেরে হুমকি-ধমকির ঘটনাও ঘটেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগের মতো অপরাধের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে এলাকায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় সাধারণত মৃত মাছের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে বিষের উপস্থিতি যাচাই করা হয়; এ ধরনের ঘটনায় আগেও মৎস্য কর্তৃপক্ষের তদন্তে নাশকতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মৎস্য খামার বলতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পুকুর, ঘের, দিঘি, পেন বা জলাধারে মাছ লালন-পালন ও উৎপাদনের স্থানকে বোঝায়।
মৎস্য চাষ গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি খামারের মাছ নষ্ট হওয়া মানে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের জীবিকা, বহুদিনের শ্রম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণই এখন ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান প্রত্যাশা।


