কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ- মোঃ- শাহীন রেজা ।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিয়ের দিন রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে নববিবাহিত যুবক আনাসের। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিয়ের সাজসজ্জায় থাকা বাড়িটি পরিণত হয়েছে কান্না ও আহাজারির ঘরে।
নিহত আনাস দৌলতপুর উপজেলার গাছেরদিয়াড় গ্রামের উত্তরপাড়ার মো. ইউসুফের একমাত্র ছেলে। গত ২০ আগস্ট পারিবারিকভাবে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেলে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে তখন চলছিল বিয়ের আনন্দ-উৎসব।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে বাড়িতে বিয়ের আয়োজন চলাকালে আনাস একটি স্ট্যান্ড ফ্যানের পাশে চেয়ারে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ স্ট্যান্ড ফ্যানটি তার শরীরের ওপর পড়ে যায়। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের ধারণা, ফ্যানটিতে আগে থেকেই বিদ্যুতের সংযোগজনিত ত্রুটি ছিল।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শোকের মাতম
আনাসের বিয়েকে ঘিরে যে বাড়িতে কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাস, সেখানে মুহূর্তেই নেমে আসে নীরবতা ও শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিশেষ করে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা মো. ইউসুফসহ পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—যেদিন আনাস নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন, সেদিন রাতেই তাকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে। নববধূকে ঘরে তুলে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার জীবনের সব স্বপ্ন থেমে যায়।
স্থানীয়রা জানান, এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। আনন্দের জন্য জড়ো হওয়া স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সবাই হতবাক।
বৈদ্যুতিক সংযোগে ত্রুটি থাকার কারণেই ফ্যানটি বিদ্যুতায়িত হয়ে থাকতে পারে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ, ফ্যান, সুইচ ও তার নিয়মিত পরীক্ষা করার পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিয়ের রাতের এই মর্মান্তিক মৃত্যু শুধু আনাসের পরিবার নয়, পুরো গাছেরদিয়াড় গ্রামের মানুষকেই শোকাহত করেছে।


