আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোর
মণিরামপুর পৌরসভার নির্ধারিত প্রাক্কলন (ইস্টিমেট) অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার না করে ড্রেন নির্মাণের ঢালাই কাজে সিমেন্টের পরিমাণ কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যে নমুনা দেখানো হয়েছে সেটি ওই ড্রেনের নয়।গত ১৯ আগস্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মণিরামপুর পৌরসভার ১ নম্বর হাকোবা ওয়ার্ডের আল্লাহ ভরসার বাড়ির সামনে নির্মাণাধীন ড্রেনটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সম্রাট হোসেন এবং মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার প্রকৌশল শাখার অধীনে মেসার্স রয়েল এন্টারপ্রাইজ ড্রেনটির সিসি ঢালাইয়ে নির্ধারিত পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার না করে খোয়া ও বালির পরিমাণ বেশি দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক কাজ বন্ধের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেন।
পরিদর্শনের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আসাদুজ্জামান রয়েলের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত ইস্টিমেট অনুযায়ী সঠিক অনুপাতে কাঁচামাল ব্যবহার করে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
মণিরামপুর পৌরসভার প্রকৌশল শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার বলেন, প্রতি বস্তা সিমেন্টের সঙ্গে যে পরিমাণ খোয়া ও বালি দেওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ খোয়া ও বালি দেওয়ায় সিমেন্টের পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সঠিক মালামাল ব্যবহার করে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই ঠিকাদারের আরও কিছু কাজ নিয়েও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আসাদুজ্জামান রয়েল বলেন, “সিসি ঢালাইয়ে তেমন কিছুই হয়নি। যে নমুনা দেখানো হয়েছে, সেটি ওই ড্রেনের নয়।”
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে খতিয়ে দেখা হবে। নির্মাণকাজে কোনো অসংগতি প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থে জনগণের জন্য যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, তা নির্ধারিত মান ও প্রাক্কলন অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থের অপচয় হলে ভবিষ্যতে ওই স্থাপনা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনভোগান্তি বাড়বে।


