একটি দুর্ঘটনাই কেড়ে নিতে পারে পরিবারের শেষ সম্বল! এনায়েতপুর–পাচিল সড়কে চরম ঝুঁকিতে জনজীবন।
আজম খান,
সিরাজগঞ্জ জেলা বিশেষ প্রতিনিধি ।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে পাচিল পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ, ভাঙাচোরা অংশ, কাদামাটি ও জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী হাজারো মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এটি শুধু একটি স্থানীয় যোগাযোগ সড়ক নয়। এ সড়ককে ঘিরে রয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে সড়কটির দুরবস্থার প্রভাব পড়ছে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাড়ছে ভোগান্তি এনায়েতপুর–পাচিল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের খানাখন্দ ও কাদাযুক্ত অংশ পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। বর্ষাকালে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। শুধু শিক্ষার্থী নয়, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি সড়কটি স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসার প্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করতে হয়।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে রোগীবাহী যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়েও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
জেলার অন্যতম পরিচিত কাপড়ের হাটের যোগাযোগও এই সড়কনির্ভর এনায়েতপুর–পাচিল সড়কের গুরুত্ব শুধু মানুষের যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই অঞ্চলের সঙ্গে জেলার অন্যতম বিখ্যাত কাপড়ের হাট ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের যোগাযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা এ অঞ্চলে আসা-যাওয়া করেন।
ফলে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের যাতায়াত এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক যোগাযোগপথের দ্রুত সংস্কার হলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনায়েতপুর গরুর হাটে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ভারী যান এনায়েতপুর গরুর হাট এলাকায় সড়কের দুরবস্থা আরও স্পষ্ট। কাদাময় ও পিচ্ছিল পথে গরুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি ও অন্যান্য ভারী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
কখনো ভারী যানবাহন কাদায় আটকে গেলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট ও জনদুর্ভোগ। পাশাপাশি ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারালে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।
বড় দুর্ঘটনার আগেই প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ স্থানীয়দের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বর্তমান অবস্থা আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার আগেই সড়কটি সংস্কার ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কারণ একটি সড়কের সঙ্গে শুধু যানবাহন চলাচল নয়—জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা মুহূর্তেই একটি পরিবারের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিতে পারে।
সরকারের পাশাপাশি মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ এনায়েতপুর–পাচিল সড়কের দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধানে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা, শিক্ষা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ড. এম এ মুহিত এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-এর সদয় দৃষ্টি ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজের উদ্যোগ নেবেন। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে।
এখন প্রয়োজন প্রতিশ্রুতি নয়, সময়োপযোগী কার্যকর উদ্যোগ। একটি বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে এনায়েতপুর–পাচিল সড়কের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি এখন এলাকাবাসীর।


