চাড়ালকাঁটা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযানে বাধা—আটক বালুভর্তি ট্রলি থানায়
রউফুল আলম, ব্যুরো চিফ, রংপুর:
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলা ও অবরুদ্ধের শিকার হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বী। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত শতাধিক নারী-পুরুষ তাঁকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেসকার ও অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। অভিযানে আটক একটি বালুভর্তি ট্রলি থানায় নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্বদিকে সিনহা কোম্পানির সংলগ্ন ডাংগাপাড়া এলাকায় চাড়ালকাঁটা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এ সময় চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বালুভর্তি ট্রলি দেখতে পান অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা। ট্রলিগুলো আটকের চেষ্টা করলে দুটি ট্রলির চালক দ্রুত পালিয়ে যায়। অপর ট্রলিটি আটকাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জামান তন্বী সামনে এগিয়ে গেলে ট্রলিচালক ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ট্রলিটি আটক করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত শতাধিক নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তাদের সরকারি গাড়িসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে তাঁরা সরকারি গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়েন এবং আটক ট্রলি ছেড়ে না দিলে কর্মকর্তাদেরও যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট পর সহকারী কমিশনার (ভূমি), পেসকার ও পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। পরে আটক ট্রলিটি কিশোরগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বী বলেন, “বালু পাচারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি বালুভর্তি ট্রলি দেখতে পাই। দুটি দ্রুত পালিয়ে যায়। অপর ট্রলিটি আটকাতে সামনে গেলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে শতাধিক নারী-পুরুষ আমাদের সরকারি গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে আমাদের আটকে রাখে। তারা গাড়ির সামনে বসে ও শুয়ে পড়ে এবং ট্রলি ছেড়ে না দিলে সরকারি গাড়িও ছাড়বে না বলে হুমকি দেয়। প্রায় ৩০ মিনিট পর অতিরিক্ত পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে এবং ট্রলিটি থানায় নিয়ে যায়।”
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পেসকার ও অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে। একই সঙ্গে আটক বালুভর্তি ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাহাগিলী ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ও জাহেদুল ইসলামের ছেলে স্বপনের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ ও তীরবর্তী কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়ছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া চাড়ালকাঁটা নদী থেকে বালু লুট বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।


