রউফুল আলম, ব্যুরো চীফ,
রংপুর:
বুড়িমারী স্থলবন্দরসহ লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তিস্তা নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার সঙ্গে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকাকে সড়কপথে যুক্ত করা হয়েছিল।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতুর একাধিক স্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং। সেটাকে সেতুতে ফাটল ভেবে পথচারীসহ স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এতে ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীসহ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুর ও লালমনিরহাটের সাধারণ মানুষ। তবে সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এটিকে বলছেন ‘হেয়ার লাইন ক্র্যাক’।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর উত্তর পাশে কয়েকটিস্থানে উঠে গেছে কার্পেটিং। এছাড়া কয়েকটি স্প্যানের ঢালাইয়ের কিছু অংশ উঠে গেছে। যার কারণে পথচারী ও স্থানীয়সহ ঈদের পরে সেতু এলাকায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া কার্পেটিং ওঠায় সেতুর একপাশ দিয়ে চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। কার্পেটিংয়ের চটলা উঠার স্থানে সতর্কতার চিহ্ন হিসেবে লাল কাপড় ঝোলানো হয়েছে।
সেতু সংশ্লিষ্ট এলাকার গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, দীর্ঘদিনের ‘স্বপ্নের সেতু উদ্বোধন হলেও সেসময় মহিপুর-কাকিনা সড়কের সিরাজুল মার্কেট এলাকায় একটি লোহার গোল পোস্ট দেওয়া হয়। যাতে সেতুর ওপর দিয়ে কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করতে না পারে। অথচ সড়ক ব্যবহারের উপযোগী না হলেও গায়ের জোরেই পাথর বোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। যার কারণে আজকে সেতু বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান আলী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে ভয়ের কোনো কারণ নাই। যেটা হয়েছে সেটা ফাটল নয়। কার্পেটিং উঠে গেছে, যাকে বলা হয় ‘হেয়ার লাইন ক্র্যাক’। এক্সপার্ট বিষয়টি দেখবে, এরপর স্থানটি সংস্কার করা হবে।
উল্লেখ্য, ১২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ফুটপাতসহ ৯ দশমিক ৬ মিটার প্রস্থের সেতুতে রয়েছে ১৬টি পিলার, ১৭টি স্প্যান ও ৮৫টি গার্ডার। তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত গঙ্গাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সেতুর উদ্বোধন করেন।


