১. প্রতারণার মূল অভিযোগ
চেরাগি আবু তালেব ও তার ছেলে চেরাগি শাহ আবু তাহমিদ নিজেদেরকে মগবাজারের প্রসিদ্ধ বুজুর্গ হজরত শাহ নূরী (রঃ)-এর বংশধর দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে।
তারা ভুয়া কাগজপত্র ও ইতিহাস বিকৃত করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
২. বংশপরিচয় নিয়ে ভুয়া দাবি
আবু তালেব দাবি করেন যে, তিনি নবাব খাজা আহসান উল্লাহ হজরত শাহ নূরী (রঃ)-এর প্রথম মোতোয়াল্লি।
কিন্তু ঐতিহাসিক ও আইনি বাস্তবতা হলো:
হজরত শাহ নূরী (রঃ) ইন্তেকাল করেছেন ২৫৯ বছর আগে (১৭৬৮ সালে)।
ওয়াকফ বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৫ সালে।
ব্রিটিশ আমলে ওয়াকফ নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয় ১৯২৩ সালে।
পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪ সালে প্রথম ওয়াকফ আইন সংসদে পাস হয়।
তাই শাহ নূরী (রঃ) মৃত্যুর প্রায় ১৩৭ বছর পরে ওয়াকফ বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং তিনি কোনোভাবেই মোতোয়াল্লি হিসেবে আবেদন করতে পারেননি।৩. আসল বংশ ও ভুয়া দাবির অসঙ্গতি
প্রকৃত তথ্য অনুযায়ী:
শাহ নূরী (রঃ)-এর ছেলে → শাহ মোহাম্মাদী (রঃ)।
শাহ মোহাম্মাদী (রঃ)-এর ছেলে → শাহ আব্দুল হামিদ (রঃ)।
শাহ আব্দুল হামিদ (রঃ)-এর ছেলে → শাহ শামসুদ্দিন (রঃ)।
কিন্তু সি এস খতিয়ান ৪৯ নং বিশ্লেষণ করে দেখা যায়:
শাহ শামসুদ্দিনের পিতার নাম ছিল গোলাম হামেদ।
অথচ প্রতারক পক্ষ এটি পরিবর্তন করে আব্দুল হামিদ লিখে নিজেদের ভুয়া বংশ দাবি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে।
৪. ওয়াকফ কমিশনে মিথ্যা আবেদন
৯ জুলাই ১৯৩৫ সালে শাহ শামসুদ্দিনের ছেলে গোলাম নূরী ওয়াকফে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন।
সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, শাহ শামসুদ্দিনের পিতা গোলাম হামেদ।
কিন্তু আবু তালেব ও তাহমিদ এই তথ্য বিকৃত করে ওয়াকফ কমিশনে ভুয়া কপি জমা দিয়ে নিজেদের ভুয়া বংশধর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
৫. উপসংহার
চেরাগি আবু তালেব ও তার ছেলে আবু তাহমিদ আসলে শাহ নূরী (রঃ)-এর কোনো বংশধর নন।
তাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন নবাব এস্টেটের বেতনভুক্ত চেরাগি (কুপি জ্বালানো ও ঝাড়ুদার)।
তারা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে ওয়াকফ সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে চাইছে, যা প্রতারণা ও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার শামিল।


